পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে দাবি করেছেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু চেষ্টা হলেও বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পুশইনের যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং সেগুলো গুজব।
কর্নেল মাহমুদ আরও জানান, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই পুশইন করতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্থানীয় জনগণও তাদের সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ্য, মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদি-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনী প্রচারণায় দলটি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ক্ষমতায় আসার পর নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত রোববার কলকাতায় এক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় না আসা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত হোল্ডিং সেন্টার থেকে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে আটক রয়েছেন, যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তবে বিজিবি বলছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে কাউকে পাঠানো হয়েছে—এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি তাদের কাছে নেই। কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করলে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যাচাই-বাছাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে তালিকা বা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং এ বিষয়ে বিজিবির কাছে কোনো তথ্য নেই।