ঢাকার শাহবাগে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার সময় পেছানোর দাবিতে আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচজন পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষে আহত শাকিল আহমেদ, আশিকুর রহমান, শাহিনুর, আবরার শাহরিয়ার উল্লাস ও রিয়াজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। এদের মধ্যে শাহিনুরের মাথায় লাঠিচার্জে আঘাত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানিয়েছেন, আহতরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার পথে পদযাত্রা শুরু করেন তারা। বিকেলে যখন তারা যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চান, তখন পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে বাধা দেয়। এতে অনেক পরীক্ষার্থী আহত হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারী প্রার্থীরা জানান, আগের বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস থেকে এক বছরের সময় দেওয়া হলেও এবার মাত্র পঞ্চাশ দিনের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী অযৌক্তিক ও অন্যায্য। তারা লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়ে বলেন, যৌক্তিক সময় না দিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে স্মারকলিপি, মিছিল, অবরোধ ও অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহে রেলপথ এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে পিএসসি জানায়, একটি পক্ষ পরীক্ষা পেছানোর দাবি করলেও, আরেকটি পক্ষ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পিএসসি আরও জানিয়েছে, ৩ জুনই পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল—ফলে পরীক্ষার্থীদের প্রায় ছয় মাস প্রস্তুতির সময় পাওয়া গেছে। তাই আগেই ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ নভেম্বর থেকেই দেশের আটটি কেন্দ্রে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।