রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, শিম ও মুলাসহ বিভিন্ন সবজি বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, তবে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক পর্যায়ে লাভ পৌঁছাচ্ছে না।
রংপুর সদর, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়াসহ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকই উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষক আবদুল করিম জানান, এ বছর ফলন ভালো হলেও হাটে টমেটো বিক্রি করতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮–১০ টাকায়। অথচ বাজারে গিয়ে দেখি সেই টমেটোই ২৫–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তাঁর মতে, পরিবহন ও সার–বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত লাভ শূন্যের কোঠায়।
পীরগঞ্জ উপজেলার সবজি চাষি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে শিম ও বাঁধাকপি চাষ করতে এবার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু হাটে শিম বিক্রি করেছি কেজিপ্রতি ১২–১৪ টাকায়, বাঁধাকপি পেয়েছি ৬–৭ টাকা। এতে লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় খরচই ওঠে না। তিনি অভিযোগ করেন, আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে কৃষক নিজের পণ্যের দাম নিজে ঠিক করতে পারছেন না।
রংপুর টাউন বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও আড়তদার ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়ে। তবে ভোক্তারা বলছেন, বাজারে দাম কমার সুফল তারা পাচ্ছেন না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সরাসরি কৃষক–ভোক্তা সংযোগ বাড়ানো গেলে এই সংকট কমবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিপণ্যের বাজারে শক্তিশালী মনিটরিং, কৃষক বাজার চালু এবং মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণে না আনলে উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছাবে না। ফলে কৃষকের আগ্রহ কমে গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।