ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি এবং সাবেক নগর মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার সাজা পেয়েছেন। বাংলাদেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে। জরিমানা না দিলে অতিরিক্ত আরও ছয় মাস সাজা ভোগের আদেশও রয়েছে।
বাংলাদেশের আদালতের এ রায়ের পর প্রশ্ন উঠেছে—এই রায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে টিউলিপের অবস্থান কতটা নড়বড়ে করবে? হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট থেকে নির্বাচিত এই এমপিকে সংসদীয় পদ ছাড়ার দাবি উঠতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এর আগে দুর্নীতি অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই তাকে ব্রিটিশ সরকারের অর্থনৈতিক সচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এতে স্পষ্ট যে, ব্রিটিশ সরকার অভিযোগগুলোকে বরাবরই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন পূর্বাচল প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম করেছেন। তবে টিউলিপ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এদিকে চেরি ব্লেয়ার কেসির নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ আইনজীবী এই বিচারকে ‘অন্যায্য’ উল্লেখ করে টিউলিপের বিচার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়া আন্তর্জাতিক ন্যায্যতার মানদণ্ডের সাথে অসঙ্গত।
বাংলাদেশে আরও দুটি বড় বিতর্কিত অভিযোগেও টিউলিপের নাম উঠে এসেছে—রাশিয়া নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলা এবং লন্ডনে উপহার পাওয়া অ্যাপার্টমেন্ট সংক্রান্ত অসদাচরণ অভিযোগ। যদিও যুক্তরাজ্যের মিনিস্টিরিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনের এক তদন্তে তিনি আইন লঙ্ঘন করেননি বলেই উল্লেখ করা হয়; তবে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক যোগাযোগ তার জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে সতর্ক করা হয়।
বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে বর্তমানে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় টিউলিপের সাজা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের আদালতের এই দণ্ড তার ব্রিটিশ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তার পরিবারের অবস্থান চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সংসদ ও দলীয় রাজনীতিতে টিউলিপ সিদ্দিকের ভবিষ্যৎ কোন পথ ধরে এগোবে—এখন সেটিই সবার নজরে।