অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির প্ররোচনায় রাখাইন আদিবাসীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও দীর্ঘদিনের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাখাইন সম্প্রদায়।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের আলীপুর থ্রি-পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, রাখাইন সমাজকল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার রাখাইন জনগোষ্ঠীর মানুষ এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, লতাচাপলী মৌজার জেএল নং–৩৪-এর প্রায় ৪২ একর বিরোধীয় জমি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে রাখাইনদের লক্ষ্য করে মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানি চালিয়ে আসছেন। এতে কালাচানপাড়া রাখাইন পল্লীর বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী ইউনুচ মাস্টার বলেন, ২০০০ সালে প্রবাসে থাকা মিসেস লাচাউ তার স্বামী অংশাচিংকে বৈধভাবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত ছিল। ওই ক্ষমতাবলে ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জমি বিক্রি ও হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। “আমরা বৈধভাবে জমি কিনেও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছি,” বলেন তিনি।
কেরাণীপাড়ার মাতবর এমং তালুকদার অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে দেশে ফিরে এসে মিসেস লাচাউ তার দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অস্বীকার করে জমির বৈধ ক্রেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। কবলা দলিল ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তারা মামলার হয়রানিতে পড়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী ভূমিগ্রাসী চক্র এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
মানববন্ধন থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত, মিথ্যা মামলার অবসান এবং রাখাইন জনগোষ্ঠীর জানমাল ও ভূমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অংশাচিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি দেশের বাইরে থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচি থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।