ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন ও গণভোটে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ চলবে। দুই ধরনের ভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটারদের সুবিধা ও সুষ্ঠু ভোটদান নিশ্চিত করতেই এ সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার আলাদা হলেও ভোটাররা দুটি ব্যালটই একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট থাকবে সাদা রঙের এবং গণভোটের ব্যালট থাকবে গোলাপি রঙের। উভয় ক্ষেত্রেই সিল ব্যবহার করে ভোট দিতে হবে। তবে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। একই দিনে গণভোটের প্রশ্ন, ভোটদানের সময়সূচি, রিটার্নিং অফিসার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, ভোট গ্রহণ পদ্ধতি, ফল গণনা, ফল একত্রীকরণ এবং গেজেট প্রকাশ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিপত্র জারি করা হয়। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারাই গণভোটের দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করবেন। এরপর সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ব্যালট ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ হিসেবে পৃথক করে গণনা করা হবে।
গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়া হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাবের ওপর। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পদ্ধতি, দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন ও উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ মোট ৩০টি বিষয়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম। প্রতিটি প্রস্তাবের বিপরীতে ভোটাররা কেবল ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। সে অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সমসংখ্যক ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হবে। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখতে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।