ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্রমূলক ও নাগরিক অধিকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিপন্থী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার ইশারায় বা কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে।
তিনি আরও লেখেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো ভোটার, সাংবাদিক কিংবা সাধারণ নাগরিক—কেউই আর তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারবেন না। এর ফলে মোবাইল সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজম কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। কোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীদের হাতে তাৎক্ষণিক প্রমাণ থাকবে না, যা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয় এবং নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার কেড়ে নেওয়াও নয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণদের ভয় পেয়ে তাদের হাত থেকে তথ্য ও মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরাই পরিবর্তনের সূচনা করেছে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্বও তাদের হাতেই। এ প্রেক্ষাপটে তিনি তরুণদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সবশেষে সাদিক কায়েম অবিলম্বে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানান এবং বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।