কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা কাঁচা বাজারে এবার চোখ ধাঁধানো হলুদ রঙের ফুলকপি দেখা যাচ্ছে। সাধারণ সাদা ফুলকপির পাশে এই উজ্জ্বল হলুদ গোলাপগুলো যেন ফুলের তোড়া – ক্রেতাদের দৃষ্টি আটকে দিচ্ছে। দেখতে যেমন অসাধারণ, তেমনি পুষ্টিগুণে সাধারণ ফুলকপির চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতা প্রথম দেখায় অবাক হয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ সরাসরি কিনে নিচ্ছেন।
সাধারণত আমরা সাদা ফুলকপি দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এই হলুদ (বা কমলা-হলুদ) ফুলকপি আসলে একটি হাইব্রিড জাত, যার রং আসে বিটা-ক্যারোটিন (beta-carotene) থেকে – যা গাজর বা কুমড়ায়ও থাকে। এই উপাদানটি শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের স্বাস্থ্য, ত্বকের উজ্জ্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রঙিন ফুলকপিতে সাদা ফুলকপির তুলনায় ভিটামিন এ-র পরিমাণ অনেক বেশি – কোনো কোনো সূত্রে বলা হয় ২৫ গুণ পর্যন্ত বেশি।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে এই রঙিন ফুলকপির চাষ বাড়ছে। বগুড়া, খুলনা, নাটোর, বগুড়ার মহাস্থানসহ বিভিন্ন এলাকায় এর চাষ দেখা যাচ্ছে। ভেড়ামারায় এই ফুলকপি সম্ভবত আশপাশের জেলা বা স্থানীয় চাষ থেকে এসেছে। ক্রেতারা বলছেন, দেখতে সুন্দর হওয়ায় সালাদ, ভাজি বা রান্নায় ব্যবহার করা যায়।
দামের দিক থেকে সাধারণ সাদা ফুলকপির চেয়ে এটি কিছুটা বেশি – কিন্তু পুষ্টিগুণ ও আকর্ষণের কারণে অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের রঙিন সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক, কারণ বাজারে দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম পাওয়া যায়।