ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আগামী বাজেটে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও দ্রুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্র, অনাপত্তিপত্র বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সরকারি সংস্থা সাড়া না দিলে ‘ডিমড অ্যাপ্রুভাল’ বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি রয়েছে বলে ধরে নিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করা যাবে।
কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায়ও গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাবে কোম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ঘোষণা থাকতে পারে, যা নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ থাকতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি করতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিধি বাড়ানো, পাশাপাশি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিগুলো হালনাগাদ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় প্রস্তুত শিল্প অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সেবা একসঙ্গে পাওয়া যাবে, ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হলে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে, ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।