“মাঠে মাঠে উল্লাস, খেলাধুলা বারোমাস” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ দলীয় মার্সেল ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলা। শুক্রবার বিকেলে বাগআঁচড়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এ ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মার্সেল ডিলার নাজমা ইলেকট্রনিক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা আমিন খান। মাঠে তার উপস্থিতিতে দর্শকদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিন খান বলেন, “খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে।”
শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় জেকাঠি বাঁকুড়া ফুটবল একাদশ ও সাতমাইল আনাস ফুটবল একাদশ। খেলা শুরুর আগ থেকেই মাঠজুড়ে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শার্শা, ঝিকরগাছা ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে এসে উপস্থিত হন।
খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল টানটান উত্তেজনা। নির্ধারিত সময়জুড়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত জেকাঠি বাঁকুড়া ফুটবল একাদশ ১-০ গোলে সাতমাইল আনাস ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মাঠজুড়ে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফাইনাল খেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন মার্সেল কোম্পানির হেড অব বিজনেস হোসেন মোহাম্মদ রইন সাব্বির, হেড সেলসম্যান নুরুল ইসলাম রুবেল, শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মিকাইল হোসেন মনা, নাজমা ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মাসুম বিল্লাহ, ম্যানেজার হাবিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে সকালে মার্সেল ব্যান্ডের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বাগআঁচড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার-ফেস্টুন ও অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আয়োজকরাও ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।