বাংলাদেশে কোনো আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা যায় না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
আইনজীবীদের মতে, অধস্তন আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্ট বিভাগে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। হাইকোর্ট রায় অনুমোদন না করা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না।
হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আসামি আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। আপিল নিষ্পত্তির পরও রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকে। এছাড়া সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির।
এসব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিতে পারে। ফলে আদালত ফাঁসির রায় দেওয়ার পর তা কার্যকর হতে কয়েক মাস থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে দ্রুততার চেয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনের মূল লক্ষ্য। তাই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আইন অনুযায়ী সব ধরনের আপিল ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়।