ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর নিজস্ব ভবন ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে আগত একটি দল প্রথম আলোর ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা ডেইলি স্টার কার্যালয়েও হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
হামলার কারণে উভয় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ থাকায় শুক্রবার পাঠকের কাছে কোনো কপি পৌঁছায়নি, অনলাইন কার্যক্রমও মধ্যরাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থগিত ছিল। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার উভয়ই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম আলোর পাঁচতলা ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। পোড়া নথিপত্র, সংবাদপত্রের কপি, কম্পিউটার, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ডেইলি স্টার ৯ তলা ভবনের তিনতলা পর্যন্ত আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেমিনার কক্ষ, লাইব্রেরি, স্টোর ও ফটো বিভাগসহ বিভিন্ন স্থান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
দুই পত্রিকা জানিয়েছে, হামলার সময় অনেক কর্মী ভবনের ছাদে গিয়ে জীবন রক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সবাই নিরাপদে উদ্ধার হন। তবে হামলার ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি এবং তৎকালীন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
হামলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়—কুষ্টিয়া, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার প্রথম আলোর আঞ্চলিক কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও কুষ্টিয়া, খুলনা ও সিলেটে আংশিক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।
এ ঘটনাকে গণমাধ্যম ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এমনভাবে দুটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া নজিরবিহীন। এই হামলার প্রেক্ষিতে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।