আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শেখ হাসিনার একটি মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন’ হয়েছে—এমন দাবি করে পোস্ট দেওয়ায় ‘পাটোয়ারী বাবু’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ওই পোস্টকে আদালত অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি আমলে নিয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আলোচিত পোস্টটিতে যারা লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর জোহার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল রাজধানীর উত্তরায় অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, যে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ডিভাইসটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে ‘পাটোয়ারী বাবু’ নামের ব্যক্তি দাবি করেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খেয়েছে আসিফ নজরুল, শিশির মনির, তাজুল ইসলাম ও বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার।’ একই পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে এবং কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারো কোর্টের অবৈধ প্রসিকিউটর তাজুল পালিয়েছে’ এবং অন্যরাও পালিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, এসব ব্যক্তি যদি দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তাহলে তার দায় বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। তিনি সংবিধানের দোহাই দিয়ে বলেন, কেউ আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে নয় এবং বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ে তামাশা করার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেন।