কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীতে পানি প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ধারাবাহিক পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে অবস্থিত প্রায় ১৩টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতে ফারাক্কা থেকে পদ্মায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২ আগস্ট থেকে পদ্মার পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিদিন গড়ে ১২–২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি হচ্ছে। বুধবার সকালে উপজেলার ভাগজোত পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৪.৭২ মিটার, যা বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে প্রতিদিন দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন দুটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর চরাঞ্চলের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মরিচ, কলা, ধানসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, নদীর পাড় অরক্ষিত থাকায় যেকোনো সময় পানি গ্রামে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকবে যাতে বন্যাকবলিত মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও যেসব জমিতে পানি প্রবেশ করেনি সেগুলোও বন্যার ধারা অব্যাহত থাকলে প্লাবিত হতে পারে।