সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় প্রশাসনের জারিকৃত ১৪৪ ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অসহায় কৃষকদের বন্দোবস্ত পাওয়া জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ থাকলেও তা অমান্য করে দখলদারিত্বের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও দখলদারিত্ব নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম গ্রামের ভূমিহীন আব্দুর রহিম (৮৫), নবাব খা (৯০) ও ১৯৯৯ সালে পুলিশের মা ( ৮০), আহির উদ্দিন (৮৯) ১ একর করে ভূমি বন্দোবস্ত পায়। এর পর থেকে চাষাবাদ করে আসলেও গেল বছর ধানের বীজ বপন বিনষ্ট করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ গ্রামের আসাদুজ্জামান (৫৫), মাসুদ রানা (৪৫), শামছু মিয়া (৫৫), ধন মিয়া (৪২) ও বৌলাম গ্রামের
বুলবুল মিয়া (৪৮)। এতে বাধা নিষেধ করলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে আসাদুজ্জামানের লোকজন । এ নিয়ে আদালতে মামলা ও জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন গত (২১ এপ্রিল) মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে। এর একদিন পর আইন অমান্য করে কৃষকদের কষ্টার্জিত পাকা ধান কেটে নিয়ে যায় আসাদুজ্জামানসহ তার লোকজন।
এতে বন্দোবস্ত পাওয়া অসহায় পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। ১৪৪ ধারার নোটিশ হাতে পাওয়ার আগে ও পরে ধান কর্তন করার বিষয়টি শিকার করে আসাদুজ্জামান বলেন, খাস জায়গা বন্টন করতে গিয়ে, আমাদের রেকর্ডীয় জায়গা সরকার বন্দোবস্ত দেওয়ায় হামলা মামলার ঘটনা ঘটছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রিট জনি রায় বলেন, যদি কেউ আদেশ অমান্য করে ধান কর্তনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।