গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজারের সঙ্গে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলে যাবে। উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে সেতুটির নামকরণ করা হয় ‘মওলানা ভাসানী সেতু, গাইবান্ধা’।
সেতুটি চালু হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সেতুর কারণে গাইবান্ধার সঙ্গে কুড়িগ্রামের দূরত্ব ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমবে, আর ঢাকার সঙ্গে চিলমারীর দূরত্ব কমবে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। এতে স্বল্প খরচে শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠবে, শিক্ষা বিস্তার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
বাংলাদেশ সরকার, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির মোট ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। সেতুটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার কাঠামোয় নির্মিত, যার দৈর্ঘ্য ১,৪৯০ মিটার, প্রস্থ ৯.৬০ মিটার, লেন সংখ্যা ২টি এবং মোট স্প্যান সংখ্যা ৩১টি।
এর আগে নদী পারাপারে মানুষকে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্ষায় দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত তিস্তা পার হওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতু সেই দুর্ভোগ ঘোচাবে এবং দুই জেলার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করবে।