বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন আমদানির জন্য নীতিগতভাবে তিনটি পৃথক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কমিটির অষ্টম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিটি সেগুলো নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবগুলো আন্তর্জাতিক ক্রয় পদ্ধতির আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন এন৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন (গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড) আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্য একটি প্রস্তাবে ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া তৃতীয় প্রস্তাবে কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল (এজিও) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানি সংকট যেন উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য আগেভাগেই পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা।