দেশের কৃষির সঙ্গে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষক স্বচ্ছল থাকলে এবং ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিঋণ মওকুফসহ কৃষকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এরই অংশ।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার। এর আগেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খালখনন কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ চালু হওয়া কৃষক কার্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১১টি উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০টি সুবিধা পাবেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যতবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, ততবারই কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। দেশকে আরও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় বর্তমান সরকার।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের সেচের পানির সংকট দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের।
কৃষি নির্ভরশীল অঞ্চলে কৃষকের পাশে থাকার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফসল নষ্ট হওয়া ঠেকাতে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।