গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে (Measles) সংক্রমণের ধাক্কায় আরও ৩ জনের মৃত্যু এবং ৯৫৭ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে পরিবার ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে পরিস্থিতি এখন তীব্র চাপযুক্ত ও মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
এই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৯৫৭ জন, যার মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। প্রকাশিত আরেকটি সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, সঠিক ল্যাব পরীক্ষায় ২৬ জনের দেহে হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। তবে আক্রান্ত বা উপসর্গপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বড় চাপ ফেলেছে।
হার্ট, নিউমোনিয়া ও মাথার সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) – এই জটিলতাগুলোও আক্রান্তদের মধ্যে ধরা পড়ছে এবং চিকিৎসকদের মতে এগুলো হাম রোগকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত কয়েক সপ্তাহে হাম সংক্রমণের তাৎক্ষণিক বৃদ্ধি ঘটেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে, এবং এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে (মার্চ মাসের মধ্যেই) হাম বা সন্দেহভাজন উপসর্গ নিয়ে কমপক্ষে ৪২ জনের মৃত্যু এবং কয়েক হাজারের বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়টি বিশেষত শিশুদের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, কারণ অধিকাংশ রোগীই শিশুই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই দ্রুত টিকাদান অভিযান জোরদার করেছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগীদের দ্রুত সনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় এবং সংক্রমণ রোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা যায়।
একইসাথে কর্তৃপক্ষ জনগণকে টিকাদান সম্পন্ন করা, স্বচ্ছ পানি ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া, এবং শিশুদের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধরে রাখতে সমাজের প্রতিটি স্তরকে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে: গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সংক্রমণে দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু ও ৯৫৭ জনের আক্রান্ত হওয়া স্বীকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে; সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।