ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) উদ্যোগে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসাসমূহের সম্মানিত প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল, সুপার ও সহকারী সুপারদের নিয়ে “ মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ভাবনা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গগন হরকরা গ্যালারীতে এই সেমিনার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়।
আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (BMTTI) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদুল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: সেকান্দার আলী।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন দা‘ওয়াহ এণ্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড.আ. ছ. ম. তরীকুল ইসলাম।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অধ্যাপক ড.আ. ছ. ম. তরীকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীনী শিক্ষা বলতে মূলত মাদরাসা শিক্ষাকেই বোঝায়। কুরআন-হাদীসে দীনী জ্ঞানের মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে। তবে বাস্তবতায় মাদরাসা শিক্ষা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে—মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে না পারা, যোগ্য শিক্ষকের অভাব, গবেষণা ও আধুনিক দক্ষতার ঘাটতি, আন্তর্জাতিকভাবে ডিগ্রির স্বীকৃতি না থাকা।
এজন্যমাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ কারিকুলাম, যেখানে আরবী ও ইসলামী বিষয়ের প্রাধান্য থাকবে; যোগ্য ও আদর্শবান শিক্ষক নিয়োগ; তথ্যপ্রযুক্তি ও সমসাময়িক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন; আরবী ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি মাদরাসার ডিগ্রিগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচিত করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন মানে মূল কাঠামো ধ্বংস নয়, বরং স্বকীয়তা বজায় রেখে যুগোপযোগী করা। যুগ যুগ ধরে মাদরাসা শিক্ষা এ দেশে ইসলাম, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাই আন্তরিকতা, সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পূর্বে মাদরাসা শিক্ষাকে বিভিন্ন ভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে। সবাই সম্মিলিত ভাবে কীভাবে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো বেশি যুগোপযোগী আধুনিকায়ন করে সমাজের মানুষের কাছে যথাযোগ্য শিক্ষাক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলিম নেতৃত্ব উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ।
প্রধান আলোচক বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, ‘আমরা মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে এ দেশের প্রধান শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই কারণ এটি পরীক্ষিত সত্য যে এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ,অর্থনীতি, মূলনীতি ও সম্প্রীতি সবকিছু নির্ভর করছে একদল সৎ যোগ্য খোদাভীরু আমানতদার মানুষদের ওপর। আর এরকম মানুষ তৈরি করার কারিগর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে এবং এই শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষ তৈরি করতে পারে না।’
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ দেশ থেকে ২৮ কোটি টাকা পাচার হয়েছে তার মধ্যে একজন ও কোনো আলেম জড়িত নেই কারণ যাদের মধ্যে আল্লাহর জ্ঞান রয়েছে তারা দুর্নীতি করতে পারে না। তারা আল্লাহর কাছে ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না আর কাউকে ভয়ও পায় না।
সেমিনারের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা দু’টি ধারায় বিভক্ত—একটা হলো বোর্ডের আওতায় যে মাদ্রাসাগুলো আছে আর একটা হলো ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যে মাদ্রাসাগুলো আছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে যদি কাজ করতে হয় তাহলে দু’টি অংশকে একত্রে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
এসময় তিনি মাদরাসা শিক্ষায় অনাগ্রহের জায়গা গুলো তুলে ধরেন। মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে এই এমন সেমিনার গুরুত্ব আলোচনা করেন।