ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে লিফট ব্যবহার গত কয়েক বছরের মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আধুনিক উচ্চমাল্টি বিল্ডিং, অফিস কমপ্লেক্স, হাসপাতাল ও আবাসিক এপার্টমেন্টে লিফট এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তবে লিফট ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ব্যবহারকারীদের অস্বস্তিকর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এমনই একটি সাধারণ কিন্তু ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হলো লিফটে আটকা পড়া।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, লিফটে আটকা পড়লে প্রথমেই সবচেয়ে জরুরি হলো শান্ত থাকা। ভয়ে আতঙ্কিত হলে অনেকেই হঠাৎ দরজা খোলার চেষ্টা করে বা লিফটে লাফ দেয়, যা গুরুতর আহত হওয়ার কারণ হতে পারে। লিফটের ভিতরে ছোট বা সামান্য আন্দোলনও কখনও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, কারণ লিফট Shaft-এর নীচে বা উপরে থাকা যন্ত্রাংশের সাথে স্পর্শ ঘটলে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সবচেয়ে নিরাপদ।
লিফটে আটকা পড়লে প্রথমে ব্যবহার করতে হবে লিফটের ভিতরে থাকা অ্যালার্ম বাটন বা ইমার্জেন্সি কল বাটন। এগুলো চাপলেই নিরাপত্তা কেন্দ্র বা লিফট সার্ভিস সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারে এবং সাহায্য পাঠায়। যদি মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে, তবে পরিবারের সদস্য বা নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যেতে পারে। ফোনে বা বাটনের মাধ্যমে অন্যদেরকে জানান যে আপনি লিফটে আটকা আছেন, এবং অতিরিক্ত চেষ্টা বা দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করবেন না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, লিফটে আটকা পড়া সাধারণত জীবনহানির কারণ হয় না। এটি প্রায়শই কয়েক মিনিট থেকে ঘণ্টার মধ্যে সমাধানযোগ্য। অনেক সময় মানুষ ভয়ে অতিরিক্ত চাপ বা চলাফেরার চেষ্টা করে নিজের ক্ষতি করে। তাই তাদের পরামর্শ হলো, লিফটে আটকা পড়লে নিয়মিত শ্বাস নিন, অল্প শান্ত হয়ে থাকার চেষ্টা করুন এবং সহায়তার জন্য অপেক্ষা করুন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার সময় কিছু ব্যবহারিক টিপসও কার্যকর হতে পারে। লিফটে যদি কেউ অন্যের সঙ্গে আটকা থাকে, তাদেরকে শান্ত রাখুন। ছোট ছোট শব্দে বা ফোনের মাধ্যমে সাহায্যের বার্তা পাঠানো যেতে পারে যাতে বাইরে থাকা কেউ আপনার অবস্থার কথা জানে। পানি বা হালকা খাবার থাকলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে যদি সময় দীর্ঘ হয়। লিফটের যন্ত্রাংশ নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা দরজা ঠেলা কখনও নিরাপদ নয়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, লিফট ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রতি ব্যবহারকারীর উচিত লিফটের সেফটি ইন্সট্রাকশন মেনে চলা এবং কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে শান্তভাবে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করা। সচেতন ব্যবহার, সঠিক পদক্ষেপ এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে লিফটে আটকা পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব এবং যেকোনও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রায়শই এড়ানো যায়।
অতএব, লিফট ব্যবহারের সময় যে কোনো সময় হঠাৎ লিফট বন্ধ হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে, সচেতনভাবে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে সাহায্য পাওয়াই সেরা সমাধান। বিশেষজ্ঞরা সবাইকে এই বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।