1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
বিসিক শিল্প পার্কে তদন্তে ধোঁয়াশা, রক্ষকই যেন ভক্ষক – দৈনিক দেশেরকথা
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ড. ইউনূসের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ মর্যাদার মেয়াদ ৬ মাস কমাল সরকার, এসএসএফ নিরাপত্তা সুবিধা সীমিত সিএনজিতে তুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা, চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেটকে: র‌্যাব আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং কমবে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতির আশ্বাস মন্ত্রীর মা-বোনদের রান্নার কষ্ট কমাতে এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মানহানির মামলায় জামিন পেলেন জামায়াত নেতা আমির হামজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান বাবার খনন করা ‘জিয়া খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিসিক শিল্প পার্কে তদন্তে ধোঁয়াশা, রক্ষকই যেন ভক্ষক সন্ধ্যার মধ্যে ৫ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা, সর্বোচ্চ ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস রাজনীতি বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রুয়েট: মুখোমুখি ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা

বিসিক শিল্প পার্কে তদন্তে ধোঁয়াশা, রক্ষকই যেন ভক্ষক

নজরুল ইসলাম
  • প্রকাশ সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক নিয়ে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক খবরের শিরোনাম হলেও, কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; গনমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। তদন্ত নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। অভিযোগ উঠেছে, যাদের ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্টো তারাই পালন করছেন ভক্ষকের ভূমিকা।

সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট  আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি সত্ত্বেও শতভাগ বিল দেয়া হয়; এতে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসছে বলে বিসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শিল্প পার্ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা তথ্য উঠে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইউনুস সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও। সূত্র বলছে, বিসিক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্প পার্ক প্রকল্প এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহারের আগেই উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, রাস্তা উঠে যাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্ত হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, তদন্ত হয়েছে সামান্য মাটি ভরাটের সমস্যা উঠে এসেছে। এসময় তিনি আরও বলেন, রাস্তার বিষয়ে তদন্ত হয়নি রাস্তার নিন্মমাণের কাজের বিষয়ে, তিনি অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন।
অপরদিকে গত বছরের ২৮ জুলাই সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবস্থাপক মাহবুবুল হকের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চান এ প্রতিবেদক, তবে ব্যবসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিসিক শিল্প এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিম্নমানের খোয়া, নিন্মমানের অর্ধাংশ ইটের ব্যবহার, প্রকল্প এলাকার ভরাটকৃত বালুর ব্যবহার, খোয়া-বালু মিশ্রনে অনিয়ম, খোয়ার পুরুত্ব কম, রাস্তার কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম; এমনকি কোথাও পাথরের ঢালাই, কোথাও খোয়ার ঢালাই দেখা গেছে। প্রায় শত কোটি টাকার রাস্তা  বছরের ব্যবধানে ব্যবহারের আগেই উঠে যাচ্ছে ।

জানা যায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করতে করতে সর্বশেষ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।
গত ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রায় ২‘শ কোটি টাকার বিল দেয় বিসিক কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে নামে দুদক এবং বিসিক। ২০২৫ সালের ১৬ আগষ্ট বিসিক শিল্প পার্কের প্রধান পরিচালক আব্দুল মতিন ও বিসিক শিল্প পার্কের একাধিক কর্মকর্তা, প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় তাকে বিসিকের ড্রেন, ড্রেনে ব্যবহৃত মালামাল, রাস্তার পুরুত্ব, রাস্তায় ব্যবহৃত মালামাল ও প্রকল্প এলাকার বালু ব্যবহার করে সাববেজ ও সোলডারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তীতে পরিদর্শন রিপোর্টে দেখতে পাবেন বলে তড়িঘরি করে গাড়িতে উঠে চলে যান। যদিও পরিদর্শনকালে তিনি রাস্তায় কোথায় কোনো মেজারমেন্ট নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা জামানত নেওয়ার জন্য বিসিক ঢাকা অফিসে চিঠি দিয়েছে, এজন্য স্যার পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন।

ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আরাফাতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি। এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এর আগে, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়জিদের কাছে জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২০- ২০২১ অর্থ বছরে ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লিঃ নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করার কারণে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও তা আজও আদায় করতে পারেনি বিসিক।

তবে এনিয়ে ২০২৪ সালে শিল্প পার্কের নির্মাণ কাজ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যেখানে হেরিংবন্ডে নিম্নমানের অর্ধাংশ ইট ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি, টেন্ডার শর্তের বাইরে কাজ করা, কার্পেটিংয়ের কাজ ৭৫ মিঃলিঃ ধরা থাকলেও কোথাও ৬০ মিঃলিঃ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ মিঃলিঃ কার্পেটিং করার বিষয়টি উঠে আসে। সেসময় সাববেজের মান নিয়েও নানা অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তবে ওই তদন্ত নিয়েও কিছু জানা যায়নি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park