বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা। এ ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ২০ কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে একাধিক শ্রমিককে আটক করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, নাসা গ্রুপসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছে। এমনকি সম্প্রতি বেপজা কর্তৃপক্ষ গোপনে কিছু শ্রমিক প্রতিনিধিকে ডেকে সমঝোতা করলেও সেখানে প্রকৃত শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
শ্রমিকরা দাবি করেন, দ্রুত তাদের বকেয়া পরিশোধ না করা হলে তারা আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করবেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করে অন্তত ১৫ জন শ্রমিককে আহত করার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেন।
এদিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক বলেন, সকাল ১০টা থেকে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হলে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর হামলা করে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তিনি জানান, দুপুর পৌনে ১২টার পর থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।