রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় সভা চলাকালে দলটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে জানা যায়, একই ভবনের তৃতীয় তলায় এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও জেলা শাখার সমন্বয় সভা চলছিল। ঠিক সেই সময় দ্বিতীয় তলায় মোহাম্মদপুর ও বংশাল থানার এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পূর্বের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে দলীয় নেতাকর্মীরা বাধা দেন।
ঘটনার সূত্রপাত তিন মাস আগের একটি আর্থিক বিরোধ থেকে। বংশাল থানার নেতা ইমতিয়াজ ও তার সহযোগীরা মোহাম্মদপুরের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেখানে এনসিপির উত্তর মহানগরের নেতা শোয়েব তাদের সহযোগিতা করতে রিয়ান নামের আরেক নেতাকে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রিয়ান বংশাল থানা নেতাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন এবং পরে ফেরত দেননি। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা টাকা ফেরত না পাওয়ায় শুক্রবার কনভেনশন হলে রিয়ানকে দেখেই তার কাছে হিসাব চান। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষে রূপ নেয় ঘটনাটি।
বংশাল থানার এনসিপি কর্মী সৌরভ বলেন, “রিয়ান টাকা নেওয়ার পর থেকে আমাদের ফোন ধরতেন না, নাম্বার ব্লক করে রাখতেন। আজ তাকে হলে দেখে টাকার কথা বলতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে মোহাম্মদপুরের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে ইউসুফ নামে আমাদের এক কর্মীর মাথা ফেটে যায়।”
অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানা এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইমতিয়াজরা নিজেরাই একটি আর্থিক জটিলতায় জড়িয়েছিলেন। আজকের ঘটনাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝি।” তাদের পক্ষ থেকেও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় এনসিপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের এক নেতা জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এখন দলীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”