দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ মোহাম্মদ মারুফ। গত বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের ভেতরে বাড়তে থাকা চাপ এবং পরিচালকদের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বছরের অক্টোবরে তিনি ঢাকা ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত এমডি ছিলেন তিনি।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান পরিচালক হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং নিয়মিতভাবে কার্যালয়ে আসা-যাওয়া শুরু করেন। এ নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত এমডির পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শেখ মোহাম্মদ মারুফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এমডির কোনো সমস্যা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নিয়মকানুন তিনি যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং সোমবার পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
চলতি আগস্টের শুরুতে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন ব্যাংকের এমডি পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডিকে আগে থেকেই ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। মেঘনা ব্যাংক ও কমার্স ব্যাংকের এমডিরাও হঠাৎ করেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমডি পদত্যাগ করলে তার কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় পদত্যাগ কার্যকর হবে কি না। এর আগে পদত্যাগ করা কোনো এমডিকে আবার কাজে ফেরানো হয়েছে—এমন নজিরও রয়েছে।