যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা খাতুন ওরফে আফরোজা আক্তার মুক্তা নামে এক নরীর বিরুদ্ধে। তার করা একের পর এক মামলার কারণে তার নিজ পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আফরোজা খাতুন বিভিন্ন সময়ে এলাকার অসহায় মানুষদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। মসজিদের ইমাম, প্রতিবেশী ও নিজ পরিবারের সদস্যসহ নিজ গ্রামের অন্তত ৯ জনের নামে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি এলাকার বিভিন্ন মানুষের নামে মামলা দিয়ে পরে থানায় বা আদালতে হাজিরা না দিয়ে তাদের হয়রানি করে আসছে। তার মামলায় মসজিদে ইমাম সাহেব বাদ যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মহল্লার কিছু গরিব ও অসহায় নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক রান্নাবান্না ও বাড়ির বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন তিনি। কেউ তার কথা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন।
স্থানীয়দের দাবি, আফরোজা খাতুন একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের কাবিনের টাকা গ্রহণের পর স্বামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছেন। শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার ৪ থেকে ৫টি বিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি কোনো স্বামীর সঙ্গে সংসার করছেন না।
এ বিষয়ে কথা হয় আফরোজা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামীর নাসির উদ্দীনের সঙ্গে তিনি জানান, ২০০৩ সালে আফরোজার সাথে তার বিয়ে হয় এবং ২০২৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহিত জীবনে বিভিন্ন কৌশলে তার প্রায় চার বিঘা জমি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করেন আফরোজা। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভয়ে তারা আর টাকা ফেরত চাইতে সাহস পাননি।,বিভিন্ন কৌশলে তার জমিগুলো বিক্রি করে দেয়। পরে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।এছাড়াও তার বড় ভাইকে মারধর করে তার নামে চুরি ও ডাকাতির মতো একাধিক মামলা দিয়েছে, যা এখনও আদালতে চলমান।”
প্রতিবেশী এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, “তিনি প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। তার কথার অবাধ্য হলে দা নিয়ে মারতে আসেন এবং বাড়ির দরজা ও টিনের চাল ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। তার অত্যাচারে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারী বলেন, “একদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি আমার বাড়িতে এসে বিভিন্ন সবজি ও তরকারি রান্না করতে বলেন। আমি অসুস্থ থাকায় রাজি না হওয়ায় পরে আমার ছেলের নামে মামলা করেন।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এলাকায় প্রায় ১৫০ জন প্রতিবেশীর নামে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা করেছেন। তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনকে বদলির হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার বলেন, ৯০ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত বিষয়টা চলমান। এ বিষয়ে তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলিগের সময় নেতৃবৃন্দ এসপি, ডিসি, সবাই যানতো। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, সাবেরুল হক সাবু শার্শা উপজেলা বিএনপির আবুল হাসান জহির,সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও খাইরুজ্জামান মধু বিষয়টিতে অবগত আছে।তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবী করেন।
এ বিষয়ে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন বলেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তার অধিকাংশেরই সুস্পষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তারপরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এসব সম্পত্তির দাবি করে যাচ্ছেন। এ ধরনের বিষয় দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা তদন্তে জেনেছি, মহিলাটী ঝগড়াটে স্বভাবের এবং ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সতর্ক রয়েছি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পাবে।