বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইউসুব আলী এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল ফিকহ অ্যান্ড ‘ল বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাফি।
এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হোসাইন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংগঠনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনে সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রঅধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, আইআইইআরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মোহাম্মদ রেজোয়ান, ফাইন আর্টস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মো. ফাজায়েল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শাখা সভাপতি নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ইউসুফ আলীকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
পরে নবনির্বাচিত সভাপতি ইউসুফ আলী সদস্যদের পরামর্শক্রমে রাশেদুল ইসলাম রাফিকে সেক্রেটারি ও জাকারিয়া হোসাইনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, আল্লাহ তা‘লার পক্ষ থেকে আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাকে আমি একটি আমানত হিসেবে গ্রহণ করছি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে এই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির মানসিকতা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। এই আমানত যথাযথভাবে আদায়ের ক্ষেত্রে আমি এককভাবে নয়; বরং সর্বপ্রথম আল্লাহর সাহায্য, এরপর সংগঠনের সাবেকদের দিকনির্দেশনা, সকল জনশক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ছাত্রসমাজের আন্তরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে চাই। পূর্ববর্তী দায়িত্বশীলদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও অবদান আমাদের জন্য পথনির্দেশক—সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ইনসাফভিত্তিক, নৈতিকতা-সমৃদ্ধ, শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, সহাবস্থান এবং শালীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চাই। মত ও পথের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সকল ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক এবং প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আদর্শ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়েই একটি সুস্থ ছাত্ররাজনীতি সম্ভব। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আগামীতেও দেশ, জাতি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলবে—ইনশাআল্লাহ।