সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে আইনের শিকার না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধান রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংশোধনী আইনের খসড়া পর্যালোচনায় গণমাধ্যমের অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশোধনী আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আইনটি যাতে নিবর্তনমূলক না হয়, সে জন্য খসড়া ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি তৃতীয় বৈঠক। আলোচনায় সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইনে বিশেষ বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। সরকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার একটি প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি সরকার উপযুক্ত মনে করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো আবেদন অনির্দিষ্টকাল ঝুলে না থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও সুপারিশ নেওয়া হবে। এ কাজে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও)। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সংগঠন এবং সাইবার বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত থাকবেন।
আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেগুলো পর্যালোচনা করে সংশোধিত খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তখনও সাধারণ মানুষ মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আইন প্রণয়নের পরবর্তী প্রক্রিয়া তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা শেষে খসড়া মন্ত্রিসভায় যাবে। অনুমোদন পেলে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদেও তড়িঘড়ি করে আইনটি পাস করা হবে না; সংসদীয় কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারিবারিক বন্ধন রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে চায় সরকার। দেশের সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আইনটি প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে।