নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ-এর এমপি পদ বাতিল হতে পারে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হান্নান মাসউদ নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আইনজীবীর পরামর্শে হলফনামায় প্রকৃত তথ্যের পরিবর্তে ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এ বিষয়টি হান্নান মাসউদ নিজেই স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, হান্নান মাসউদ হলফনামায় নিজের কোনো স্থাবর সম্পদ নেই বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ পরবর্তীতে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, যা হলফনামার তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ-এর ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দেওয়া একটি বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ওই বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও তদন্ত করা যাবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলসহ সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে।
রাশেদ খান দাবি করেন, অতীতে হান্নান মাসউদকে নিয়ে তিনি যেসব তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও হলফনামার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি হান্নান মাসউদ সত্যিই আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন ও সৎ হয়ে থাকেন, তাহলে সেই বাস্তব চিত্র কেন নির্বাচনী হলফনামায় প্রতিফলিত হয়নি।
তবে এ বিষয়ে হান্নান মাসউদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।