দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, গত এক সপ্তাহে হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গত এক সপ্তাহে হামে নিশ্চিত মৃত্যু শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যাও কমে পাঁচের নিচে নেমেছে। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তামাক ও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশে অসংখ্য মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় তামাকজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায়। ফলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য তামাক একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর লাইসেন্স বাতিলের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্য শাখায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।