দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা ও অনিয়মের কারণে ধীরগতিতে চলা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর উন্নয়ন কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে গতি ফিরে এসেছে। ‘Further Development of RUET Project’-এর আওতায় একাধিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ এখন দ্রুত এগোচ্ছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ছিল ৫৯৯ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে ৬২৯ কোটিতে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের সময়সীমাও বাড়ানো হয়। যদিও কার্যক্রম শুরু হয় কয়েক বছর আগে, প্রশাসনিক জটিলতা, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদার হওয়ায় প্রকল্পগুলোর কাজ নতুন করে সচল হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বর্তমানে পুরকৌশল অনুষদ ভবন, ইসিই অনুষদ ভবন, নতুন প্রশাসনিক ভবন এবং যন্ত্রকৌশল অনুষদ ভবনের কাঠামোগত কাজ ১০ম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এসব ভবনের অভ্যন্তরীণ কাজও দ্রুত এগোচ্ছে এবং অর্ধেকের বেশি কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
একইভাবে ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণকাজও প্রায় সম্পন্নের পথে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ফিনিশিংয়ের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষক ডরমেটরি ভবন সম্পূর্ণ করে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে বসবাসের জন্য আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ছাত্রীদের জন্য নির্মিত দুটি আবাসিক হল নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হওয়া এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদের জন্য নির্মিত হলগুলোর কাঠামোগত কাজ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খুব শিগগিরই সেগুলোও ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা স্টাফ ও অফিসার্স কোয়ার্টারের কাজও এখন সম্পন্ন হয়ে ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তদারকি জোরদার হওয়ায় প্রকল্পগুলোতে গতি এসেছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল বলেন, “দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা কাটিয়ে আমরা প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে রুয়েটের শিক্ষা ও আবাসন ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও উন্নত হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।