1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা – দৈনিক দেশেরকথা
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল থাকবে বাসে সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা অফিস পেয়ে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, ছোটদের ‘না’ না বলতে পরামর্শ বিরোধীদলীয় নেতার আলমডাঙ্গায় সেতু আছে, রাস্তা নেই! ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্পে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা বেগমগঞ্জে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত নেতা মাওলানা বোরহান উদ্দিন আমানিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হাজী ওসমান গনি আর নেই ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ, জনসমর্থনে ধসের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন লাকসামে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীসহ দু’জন গ্রেপ্তার শ্রীপুরে বিএনপি নেতা শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কামারখন্দে সাশ্রয়ী চিকিৎসায় সুবিধাবঞ্চিতদের পাশেখোকন মেমোরিয়াল হসপিটাল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশ সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এখন আর একতরফা শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়; এটি রূপ নিয়েছে প্রতিরোধের এক বিস্ফোরক বাস্তবতায়। ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে দ্রুত দমন করার যে কৌশল নিয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তব পরিস্থিতিতে তা ক্রমেই ব্যর্থ হতে দেখা যাচ্ছে। সামরিক, কৌশলগত এবং আঞ্চলিক জোট সব ক্ষেত্রেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান দেখিয়ে দিচ্ছে, চাপের মুখে নত হওয়া নয়, প্রতিরোধই তাদের প্রধান শক্তি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমা শক্তির অজেয়তার ধারণাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে তেহরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। ইরানের দাবি, বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, শিল্পকারখানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক হামলার ফলে এই চুক্তিতে থাকার যৌক্তিকতা হারিয়ে গেছে। ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিকমাধ্যমে জানান, এনপিটিতে থাকা এখন আর দেশের স্বার্থে নয়। সংসদ সদস্য মালেক শারিয়াতি এ বিষয়ে জরুরি বিল উত্থাপনের কথাও জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত বিলে এনপিটি ত্যাগের পাশাপাশি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সব বিধিনিষেধ বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন ও ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনাও সামনে আসছে। তবে এই বিল কার্যকর করতে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ‘নো কিংস’ শিরোনামে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী নীতি ও ইরানে যুদ্ধের প্রতিবাদে এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বড় সমাবেশ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, ছোট শহরগুলোতেও অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিক্ষোভে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো বক্তব্য দেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের শতাধিক শহরে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। লেবানন থেকে রকেট এবং ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও হাইফা উপকূলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে।

শুধু ইসরায়েল নয়, আঞ্চলিক অবকাঠামোতেও ইরানের হামলার প্রভাব পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্ট এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন আহত হয়েছেন। সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার দাবিও করেছে।

অন্যদিকে ইরানে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান, এয়ারওয়ারস এবং সেন্টার ফর সিভিলিয়ানস ইন কনফ্লিক্টের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৪৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৭ জন শিশু। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি যাচাইকৃত সর্বনিম্ন হিসাব এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল, পর্যাপ্ত সতর্কবার্তার অভাব, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার কারণে এসব ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। এ সময়ে ৬০টি হাসপাতাল, ৪৪টি স্কুল এবং ১২৯টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধের চাপ মোকাবিলায় মিশর সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। দেশটির সব দোকান, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টার রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার আলো ও বিজ্ঞাপন আলোকসজ্জা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে তেহরানে হামলায় ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে ধ্বংসস্তূপের ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত ৯ জন আহত এবং ২০টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। নিহতদের মধ্যে আল মানার টিভির আলী শোয়াইব এবং আল মায়াদিনের ফাতিমা ফাতুনি রয়েছেন। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, আলী শোয়াইব হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য ছিলেন এবং তাকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ থেকে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে। উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ট্যাংকার থেকে বড় অঙ্কের ফি আদায় করতে পারলে ইরানের মাসিক আয় শত শত কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইনে এই দাবি বৈধ নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও মেরিন মোতায়েন করেছে। ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজও দায়িত্ব এলাকায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন সীমিত স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে বিশেষ বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধ আরও বিস্তারের আশঙ্কাও বাড়ছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা নতুন করে ইসরায়েলে হামলার দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তারা পূর্ণমাত্রায় অংশ নেবে। লেবানন ও ইরাকে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ জনে পৌঁছেছে। ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন সেনারা স্থলভাগে এলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদে একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park