বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। এ পদে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক আস্থা।
তিনি অভিযোগ করেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। পাশাপাশি তিনি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর জনগণ যখন কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, কোটা আন্দোলন কেবল কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কিন্তু নতুন গভর্নর নিয়োগ সেই প্রত্যাশার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শক্তিশালী, স্বাধীন ও দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া কেউ কীভাবে পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, অর্থনীতি যখন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।