1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৫ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন লাকসামে সিনেমা কায়দায় অপহৃত শিক্ষার্থীকে দুইদিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ মেসির অট্টহাসি কি প্রতিপক্ষের জন্য বার্তা? আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার সিরাজগঞ্জে দুই মিষ্টির দোকানকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা তৃতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন আমির খান, পাত্রী গৌরি স্প্র্যাট? জনগণের আস্থা পূরণে কাজ করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: স্পিকার মাদারগঞ্জে সাপের কামুড়ে শিশুর মৃত্যু কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: বিমান চলাচল বন্ধ , নিহত ১ আহত কয়েকজন  মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আবারও গণ-অভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

গভীর সংকটে বস্ত্রখাত, অদৃশ্য ইশারায় আটকে আছে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশ বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের অর্থনীতির স্পন্দন হিসেবে পরিচিত স্পিনিং বা সুতা শিল্প আজ গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগধারী এই শিল্প খাত থেকেই টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল সরবরাহ হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বন্ড সুবিধায় প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবাধে সুতা আমদানির ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর পরিণতিতে মিলগুলোতে জমে আছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার অবিক্রিত সুতা এবং ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৬০টি স্পিনিং মিল।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সহসভাপতি সালেউদ জামান খান জানিয়েছেন, লোকসানে সুতা বিক্রি করতে করতে গত দুই বছরে দেশের স্পিনিং মিলগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারকে বারবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নিজেদের পণ্যে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিয়ে কম দামে বাংলাদেশে সুতা ডাম্পিং করছে, যার মূল লক্ষ্য দেশীয় শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় স্পিনিং শিল্প ধ্বংস করতে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ভারতে ৩০ কাউন্টের এক কেজি সুতা উৎপাদনে ব্যয় হয় প্রায় ২ দশমিক ৯৩ ডলার, যেখানে বাংলাদেশে একই সুতা উৎপাদনে ব্যয় ২ দশমিক ৮৫ ডলার। কিন্তু ভারত সরকার নিজস্ব উদ্যোক্তাদের নানাবিধ সুবিধা দেওয়ায় তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পেয়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ কম দামে সুতা রফতানি করতে পারছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে, আমদানি বাড়ছে আর স্থানীয় মিলগুলো ক্রমেই রুগ্ন হয়ে পড়ছে।

বিটিএমএ’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশই তাদের মোট সুতার প্রায় ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশে রফতানি করছে। এতে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুরোপুরি একক দেশনির্ভর হয়ে পড়ছে। স্থানীয় মিলগুলো যদি সক্ষমতা হারায়, তাহলে ভবিষ্যতে ওই দেশ একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করলে বাজারে দাম ও সরবরাহ—দুটোই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

খাত সংশ্লিষ্টরা আরও অভিযোগ করছেন, বন্ড সুবিধায় আনা সুতা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অপব্যবহারকে দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা চালু থাকলেও এই দীর্ঘ সময়ে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও শিল্প সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সালেউদ জামান খান বলেন, বন্ড ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রকৃত রফতানিকারকদের কোনো সমস্যা হবে না, বরং কালোবাজারে জড়িতদের পথ বন্ধ হবে।

ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দারের মতে, ডিবন্ডিং কার্যকর হলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তখন শুল্ক দিয়ে সুতা আমদানি করতে হবে এবং রফতানি না করলে শুল্ক ফেরত পাওয়া যাবে না। ফলে যারা ভিন্ন উদ্দেশ্যে সুতা আমদানি করত, তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সুতায় বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠিও দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অদৃশ্য হস্তক্ষেপের কারণে সেই সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর হয়নি। এর ফলে প্রতিদিনই আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে দেশের বস্ত্র ও স্পিনিং শিল্প।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park