খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় তিনজন নিহত, বেশ কয়েকজন আহত এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আসক জানায়, নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং কিশোরীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংস্থাটি মনে করে, নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি সমগ্র সমাজকে বহন করতে হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আসক বলছে, পার্বত্য এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। অতীতে সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অন্তর্নিহিত কারণ নিরূপিত না হওয়ায় একই ধরনের পরিস্থিতি বারবার ঘটছে।
আসক মনে করে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা উসকানি কোনো সমাধান নয়; বরং তা পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।