প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারে কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না, কোনো অভদ্র আচরণও চোখে পড়ছে না। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যমুনায় অনুষ্ঠিত একটি সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা চলছে এবং সার্বিকভাবে নির্বাচনকে ঘিরে ইতিবাচক আবহ বিরাজ করছে।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত একটি হাই-প্রোফাইল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে এগোচ্ছে এবং এতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট বলে সভায় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নারী-পুরুষ সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন এবং এই ভোট স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে ইতোমধ্যে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। দেশের কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে।
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০ হাজার।
পোস্টাল ব্যালটের ভোট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। এছাড়া ‘পাশা’ নামে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদান স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোট যেন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়টি একটি কঠিন সময় হলেও সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।