শোক আর শ্রদ্ধায় স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো দেশ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর শেষ বিদায় দিতে অপেক্ষায় রয়েছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। তাঁর অকাল প্রয়াণ শুধু একটি জীবনকে থামিয়ে দেয়নি, থমকে দিয়েছে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, প্রতিবাদ আর সাহসের ভাষা।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর ওসমান হাদীর নিথর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখতে ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ।
আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ওসমান হাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই জানাজায় রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে দোয়া, মিছিল আর শোকসভায় একাকার হয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ।
ওসমান হাদীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ঢাকা–৮ আসনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে তাঁর পরিবারের ভূমিকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও সমর্থকদের মধ্যে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে ওসমান হাদীর বোন ওই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন কি না। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সমর্থকদের আবেগ ও প্রত্যাশা এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।
জনজীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ সবখানেই একটাই উচ্চারণ, ‘হাদির রক্ত বৃথা যাবে না’। অনেকেই বলছেন, এই বিদায় শুধু একজন নেতার নয়, এটি একটি আন্দোলনের, একটি সময়েরও বিদায়। তবে তাঁর আদর্শ, সাহস আর প্রতিবাদের ভাষা থেকে যাবে মানুষের হৃদয়ে, রাজপথে ও ভবিষ্যৎ লড়াইয়ে।
শেষ বিদায়ের এই মুহূর্তে চোখের জল, নীরব প্রার্থনা আর অঙ্গীকারে এক হয়ে গেছে দেশ।