জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকায় রবিবার রাত থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত টহল ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে সেন্ট্রাল রোডে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে বিস্ফোরিত হয় দুটি ককটেল। এছাড়া তিতুমীর কলেজের সামনে সড়ক ও আমতলী মোড়েও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং সড়কের এক স্থানে বাসে আগুন দেওয়া হয়।
ঢাকার বাইরে ধামরাই ও সাভারে দুটি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিলেটের পাঠানটুলা এলাকায় দোকানপাট ও গাড়ির ওয়ার্কশপে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এদিকে বগুড়া ও গাজীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের দুটি কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফেনীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে রাজধানীর একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রবিবার রাতে মাদারীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে মশাল মিছিল বের করেন। এর আগে ভোরে একই সড়কে গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়, যার কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল চলাচল।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ ঘোষণার দিনও আওয়ামী লীগের ডাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে নানা স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রায় ঘোষণার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।