ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বৈঠক করেন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে শপথের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। প্রটোকল ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ পাওয়ার পর শপথ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ায় শপথ আয়োজন এখন সময়ের অপেক্ষা।
তবে শপথ বাক্য কে পাঠ করাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তুতির বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন, যা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী সোমবার এ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্পিকারের পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান কার্যকর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ পড়াতে পারেন। সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু একটি মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে আছেন। ফলে শপথবাক্য কে পাঠ করাবেন—তা নিয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।