জ্বালানি তেলের বাজারে বৈশ্বিক অস্থিরতা বিরাজমান। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। এর ফলে বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করতে চাইলে সরকার কর্তৃক ২৩ এপ্রিল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ হলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, “এই সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় যদি বাস মালিকরা করে, তাহলে শক্ত অবস্থান ও শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, এই অজুহাতে বাস মালিকরা সরকারি রেট অমান্য করে তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রকাশ্যে অনলাইন ও অফলাইনে টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। একটি উদাহরণ দেখা যাক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়া বাস স্টেশন থেকে ঢাকার সায়দাবাদ বাস স্টেশন পর্যন্ত দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার। সরকারি নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া সমন্বয়ের ফলে মোট ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ টাকা। কিন্তু বাস্তবে গোল্ডেন লাইন কর্তৃপক্ষ পূর্বের ৬৫০ টাকার ভাড়া ৭৫০ টাকা আদায় করছে।
একইভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন ভাড়া নির্দেশনা অমান্য করে অহরহ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে, তেলের দামের বৃদ্ধিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এটির নিয়ন্ত্রণ আনতে ব্যর্থ হলে অবাধে বাড়বে পরিবহন খরচ, বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।
তাই দেশের প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি আহ্বান রইল, আপনারা এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে এই অসঙ্গতি সবার সামনে নিয়ে আসবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং ভোক্তা অধিদপ্তর এবং সর্বোপরি সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা যথাযথ নজরদারি বৃদ্ধি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
যেসব অসাধু ব্যক্তি এই সংকটকালীন অবস্থাকে পুঁজি করে নির্দেশনা না মেনে নিজ ইচ্ছেমতো ভাড়া বৃদ্ধি করবে, তাদের যথাযথ ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষে প্রত্যাশা থাকবে, সরকার তার দক্ষ ব্যবস্থাপনা দিয়ে এই সংকট দূর করে জনগণকে স্বস্তি এনে দেবে।