গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ঘিরে দিনভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর আতঙ্কের পর রাতভর কাটেছে কারফিউর নিঃশব্দ পাহারায়। উত্তেজনার আগুন পেরিয়ে শহরে এখন নেমেছে এক ধরনের থমথমে নীরবতা।
পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় চলছে বিশেষ অভিযান। ইতোমধ্যেই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িতদের খুঁজে বের করতে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালেই শহরজুড়ে দেখা যায় এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। সড়কে নেই অভ্যন্তরীণ যানবাহন, দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ। তবে অলিগলিতে কিছু মানুষ বের হয়েছেন জরুরি প্রয়োজনে। চায়ের দোকান, হোটেল–রেস্তোরাঁ কিছুটা খোলা থাকলেও শহরের মূলচিত্র জুড়ে আতঙ্কের ছাপ।
শহরের বিভিন্ন রাস্তায় এখনো পড়ে আছে আগের দিনের সংঘর্ষের চিহ্ন—ইটপাটকেল, গাছের গুঁড়ি, বাঁশের ব্যারিকেড। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সামনে পড়ে আছে কাটা গাছ, যেন শহর আজও বলছে—”সব ঠিক নেই এখনো!”
শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ব্যস্ত সাফাই কাজে, তবে সেই পরিচ্ছন্ন চেহারা ফিরতে সময় লাগবে— বলছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জ সদর সার্কেল পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাবে না। কারফিউ বলবৎ রয়েছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় চলছে বিশেষ অভিযান।”
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল বুধবার দুপুরে, এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ইউএনও’র গাড়িও হামলার শিকার হয়। পরে এনসিপি নেতারা আশ্রয় নেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, যেখান থেকে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জ আজ রয়ে গেছে “ঠান্ডা জ্বালায়”— যেন আতঙ্ক আর নিরাপত্তার কড়াকড়ির মাঝে বিরাজ করছে এক ধোঁয়াটে সকাল। এখন দেখার বিষয়, বিশেষ অভিযান কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং শহর কবে ফিরবে স্বাভাবিক জীবনে।