ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতির প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ভোটগ্রহণ শেষে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব মিলেই এই সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে। এতে গণতন্ত্রের প্রতি জাতির অঙ্গীকার আরও একবার দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে— সে বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে যে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এই নির্বাচনকে জাতির জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। তার মতে, দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনগুলোর একটি, এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে।