দেশের ভেতরে সৃষ্ট মেঘমালার কারণে আগামীকাল রোববার (৩ মে) থেকে টানা চার দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চার বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট মেঘমালার কারণে ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী সোম, মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিরাজমান লঘুচাপের কারণে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝোড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ১৬২ মিলিমিটার। এছাড়া সিলেটে ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারি এবং হাওর অববাহিকায় অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিন জেলার পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবারের তুলনায় সুনামগঞ্জের নালজুর নদী এবং নেত্রকোনার মগরা নদীর পানি অন্তত শূন্য দশমিক ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার ভুসাই-কংস নদী ও সোমেশ্বরী নদী এবং হবিগঞ্জের সুতাল নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তাদের ৪৬টি বন্যা পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৯টি স্টেশনের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান বলেন, প্রাক-মৌসুমি বন্যার কারণে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব অঞ্চলের নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি মৌলভীবাজার জেলার হাওর অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।