জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নয়, বরং বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের ২২ ধারার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ জারি হলে নির্বাচনের আগেই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য কমিশনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার সিদ্ধান্তের মধ্যে ৭৩টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে। তবে কিছু ইস্যুতে বিভাজন থাকায় সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্টও যুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গণভোট সবচেয়ে টেকসই উপায় হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা আয়োজন সম্ভব নয়। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ছাড়া গণভোটে সংস্কার পাস হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বরং ব্যর্থ হলে তা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবিধানিক আদেশই বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ সমাধান।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, জুলাই সনদের একাংশে থাকবে সংস্কারের সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকার, আরেকাংশে থাকবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি। সরকারকে এটি সুপারিশ আকারে দেওয়া হবে। বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে—সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় সংস্কার পরবর্তী সংসদে করা হোক, আর যেগুলোতে সংশোধনের দরকার নেই, তা বর্তমান সরকার অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করতে পারে। তবে জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচনের আগেই সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন দাবি করছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের অভিপ্রায়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, আর সেই ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ জারির এখতিয়ার রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায় থেকে আসা এই ধরনের আদেশ সংবিধানের সমতুল্য মর্যাদা বহন করে। তবে এটি টেকসই হবে কিনা, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার ওপর।