1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
চাটখিলে ১১ বছরেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার, আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা – দৈনিক দেশেরকথা
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭২ চাটখিলে ২ স্বামীর সাথে সংসার করার অভিযোগ ১ নারীর বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জে সড়ক সংস্কারের কাজ পরিদর্শনে এমপি মাজেদুর সংবাদের নামে ‘অশালীন ভিডিও’ ধারণ বিতর্ক, যা বললেন মিম ও পরীমনি নিষেধাজ্ঞার জালে বন্দি জেলে জীবন, মিলছে না সহায়তার ভরসা সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত বহাল, বছরে ৯ মাস নিষেধাজ্ঞা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতি, প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ নাহিদের চাটখিলে ১১ বছরেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার, আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি, কাফি ও ফ্লোরা রুয়েটে দিনব্যাপী ‘র তে রোবট’ প্রযুক্তি উৎসব সম্পন্ন

চাটখিলে ১১ বছরেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার, আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা

দেশেরকথা ডেস্ক:
  • প্রকাশ শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে এই প্রশ্ন বুকে নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন সুরমা। ছেলে একরাম হোসেন স্মরণ হত্যার বিচার না পেয়ে তিনি আজ ক্লান্ত, হতাশ; তবুও ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই থামাননি। স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ জুন রাতে চাটখিল বাজারের মেসার্স মুন ফার্নিচার স্টোরে বার্নিশের কাজ করা একরাম হোসেন স্মরণকে একদল সন্ত্রাসী কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার দুটি পা ভেঙে দেয় এবং দাঁতের মাড়ি উপড়ে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে চাটখিল সদর হাসপাতালে, পরে মাইজদী হয়ে ঢাকায় নেওয়া হয়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি স্মরণকে। ২০১৫ সালের ৫ জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

‘মীমাংসা না করলে বাকি সন্তানদেরও একই পরিণতি’

স্মরণের মা শাহীন সুরমার অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তদের একটি পক্ষ প্রথমে সামাজিকভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলে, “সামাজিকভাবে না বসলে তোমাকেও তোমার বাকি সন্তানদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

এসব হুমকি উপেক্ষা করে তিনি ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চাটখিল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন:

 মিলন,সজীব,হুক্কা, মানিক,কামাল, হালিম,শাহজাহান, 

বিপ্লব,জান্নাতুল ফেরদৌস,বাবুল,রুবেল, কবির আহমদ,আক্তার,ইসমাইল,মো. সুজন,তোফায়েল আহমদ, অব্যাহতি পেলেও থামেনি মায়ের লড়াই

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর, নোয়াখালী আমলি আদালত নং–৭ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদী নাহী সব আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন।এই আদেশে ভেঙে পড়েন শাহীন সুরমা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,“আমার সন্তানের বিচার বুঝি এ জন্মে আর পেলাম না।” তবে হাল ছাড়েননি তিনি। আইনের প্রতি আস্থা রেখে ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। আদালত তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং–১৩৮, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫/৪৩৬/৪৩৯(এ) ধারায় বিচারাধীন রয়েছে।‘প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না’স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি এলাকায় বহুল আলোচিত। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে কেউ প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে ১১ বছর পার হলেও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে মা শাহীন সুরমা এখনো আশায় বুক বাঁধেন—একদিন হয়তো আদালত তার সন্তানের হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park