অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের ফলদ গাছ কেটে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে। তিনি এমপিও নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গোপনে বিদ্যালয়ের সামনে দোকনঘর নির্মাণ করায় এলাকাবাসি ও অভিভাবকদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের সামনে দোকানঘর নির্মাণের জন্য প্রধান সড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয় মাঠের দুটি কাঁঠাল গাছ কেটে নেয়। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি ইএনও’র নিদের্শে প্রধান শিক্ষক অজ্ঞাত নামা আসামি উল্লেখ করে থানায় গাছ কাটার মামলা দেয়।
কিছুদিন যেতে না যেতেই মোটা অংকের জামানতের টাকার বিনিময়ে সেখানে গোপনে দোকানঘর নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়ের সিংহভাগ অবকাঠামো পিছনে ফেলে সম্মুখভাগের সৌন্দর্য বিনষ্ট করে দোকানঘর নির্মাণের বিষয়টি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠে। এর আগে ওই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করলে প্রধান শিক্ষক সেখানে দোকানঘর নির্মাণ না করার অঙ্গীকারনামা দেন। এছাড়া প্রধান সড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়ের ২৮টি দোকানঘর বরাদ্দের মোটা অংকের জামানত ও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ার টাকা প্রধান শিক্ষক তছরুপ করেছে বলে ওই বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানায়।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম বেসরকারি স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ এর ৫.৩ (গ) অনুচ্ছেদ অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণের বিষয়ে জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ইন্ধনে সহকারী শিক্ষক সবুজসহ অন্যান্যরা আমার কোন নির্দেশনা মানেনা। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ ও জামানত-ভাড়া আদায়সহ সব কিছু ওনারাই করেন। এছাড়া, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর আমি বিদ্যালয়ের কোন টাকা গ্রহণ করি না, তাই জামানত ও ভাড়ার টাকা তছরুপ করার প্রশ্নই উঠেনা। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া এর সঙ্গে একাধিকবার যোগের চেষ্ঠা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।