চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নির্মম মারধরে ৮ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত শনিবার উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে একটি তেলাপোকা শিক্ষার্থীদের শরীরে পড়লে তারা ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। এ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এতে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর শিক্ষার্থীদের কিছু সময় বিদ্যালয়ে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, যাতে তারা বাড়িতে বিষয়টি প্রকাশ না করে। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা এসে তাদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গন যেখানে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে এমন বর্বর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি; তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ভোগাইল বগাদী গ্রামের নবুর আলীর ছেলে ।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। রোববার ওই টিম বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।