আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না করে, তাহলে তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেওয়া হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, তারা তাদের একজন সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন এবং এরপর আর কোনো সহযোদ্ধা হারালেও ১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে, নির্বাচন পেছানো যাবে না। তবে নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের জীবনকে জাহান্নামে পরিণত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা চুপ থাকবে না।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই চিঠি পাঠানো হবে। তবে সেই চিঠিতে কী লেখা হবে, তা আগে দেখতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। এ জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের ৮ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা কেবল স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান, যা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে। তাদের দাবি, দেশীয় ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারছেন না।
শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের পুলিশ ব্যবস্থা আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশ সদস্যরা নেমপ্লেট খুলে ফেলেছিলেন এবং সংগঠনের এমন কোনো কর্মী নেই, যারা ওই ঘটনায় আহত হননি।
হাদি হত্যার বিচার, পুলিশি সহিংসতা ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। এতে করে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।