জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যখন কথা বলা হবে, তখন সবার বক্তব্য যেন দায়িত্বশীল হয় এবং তথ্যভিত্তিক থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারি গেজেটে যখন ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সূত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, তখন বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কীভাবে ১ হাজার ২০০ শহীদ পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার দাবি করেন। তিনি এটিকে ইতিহাস বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে তাকে উদ্ধৃত করে কথা বলেছেন এবং এটি জুলাই শহীদদের প্রসঙ্গেই এসেছে। তিনি বলেন, শহীদের সংখ্যা যদি ৮০০-এর বেশি হয়, তাহলে তিনি ১ হাজার ২০০ পরিবারে কীভাবে গেছেন, এ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অধিবেশনে উপস্থিত না থাকায় তিনি সরাসরি উত্তর দিতে পারেননি বলেও জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, শুধু জাতীয়তাবাদী দল এবং তার অঙ্গসংগঠনের শহীদ হয়েছে এক হাজারেরও বেশি। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যই যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে হিসাব এখান থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, তিনি কোনো আনঅথেন্টিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। তার কাছে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল রয়েছে এবং অনেক সংসদ সদস্যও সেই প্রোফাইল পেয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, তাদের ওয়েবসাইটেও এসব তথ্য রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পরই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সংখ্যাটি শুধু তাদের দলীয় তথ্য নয়, বরং জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির উদ্ধৃতিতেও শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫১ জন বলা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় গেলে অনেকে এসে খোঁজ করেন তাদের স্বজনদের বিষয়ে, যারা ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সময় নিখোঁজ হয়েছেন কিংবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব মানুষের প্রকৃত হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। এ কারণেই জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় আরও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।