নির্বাচনী অঙ্গীকারের অগ্রাধিকারভুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদের সমন্বয়ে গঠিত বাস্তবায়ন কমিটি চার দিনের মধ্যেই প্রাথমিক নকশা ও কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। আজ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি চালু করা হবে। তবে শুরুতে ঢাকার বাইরে একটি জেলা দিয়ে পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, প্রথম ধাপে বগুড়া জেলা থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনে কার্ডের সংখ্যা, সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও বিতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিচালনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ড. মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কমিটি সুবিধাভোগী নির্ধারণের মানদণ্ড, ডাটাবেইস প্রস্তুত ও আর্থিক কাঠামো নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করেছে।
সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড বিতরণ শুরু করা। আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যা প্রচলিত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ। প্রাথমিকভাবে প্রতি পরিবারকে মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা এবং নিত্যপণ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে রমজানের সময়সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। রবিবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের উপস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি মৌখিক নির্দেশনাও দেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতা ও সক্রিয় উপস্থিতিতে অনেকেই অভিভূত হয়েছেন।